হবিগঞ্জের শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট থাকলেও কার্যত মাত্র একটি ইউনিট কোনোমতে চালু রয়েছে। কেন্দ্রটির মোট সক্ষমতা ৪৯০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে বড় ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি ২০২২ সালের মে মাসে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে সংস্কার কাজ বিলম্বিত করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর পার হলেও প্ল্যান্টটি এখনো চালু করা যায়নি, যা বিশাল বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্যতম কারণ। এছাড়া, ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি ইউনিট ২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও নানা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বারবার বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। উদ্বোধনের পর চার বছরে এটি মাত্র ৬৭ দিন সচল ছিল।
বর্তমানে কেন্দ্রটিতে পুরনো ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট চালু আছে, তবে সেটি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। ফলে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে জাতীয় গ্রিডে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারেনি, যার ফলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে, যাতে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাহত হয় এবং বেসরকারি খাত সুবিধা পায়।
এ প্রসঙ্গে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “সরকারি প্ল্যান্টগুলো সচল রাখতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং এসব প্ল্যান্ট বন্ধ রেখে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে।”এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত একটি ইউনিট আগামী এপ্রিলের মধ্যে চালু হতে পারে। তবে বাকি ইউনিটগুলোর সংস্কারের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। বিশাল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেও দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অব্যবহৃত থাকায় দেশবাসী বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


