প্রশাসনে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) তাদের কার্যক্রম শেষ করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দু’এক দিনের মধ্যেই পদোন্নতির সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হতে পারে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় মন্ত্রণালয়, তবে নানা মহল থেকে তদবিরের অভিযোগ উঠেছে।
এবারের পদোন্নতিতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচকে মূল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পূর্বে বঞ্চিত ২০তম, ২১তম এবং ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় আছেন। মোট ৪৭৫ জন উপ-সচিবের নথিপত্র যাচাই করে, প্রাথমিকভাবে ২৭৫ জনকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।
তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশেষ কিছু ডিসি ‘রেড জোনে’ রয়েছেন এবং তাদের পদোন্নতি নিয়ে সরকারের কঠোর মনোভাব রয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতি তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সাবেক সচিব এবং প্রভাবশালী উপদেষ্টাদের মাধ্যমে জোর তদবির চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে, যেসব উপ-সচিব অতীতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের একান্ত সচিব (পিএস) ছিলেন, তাদের অনেকেই পদোন্নতির দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চান। এমনকি বিদেশি মিশনে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যেও পদোন্নতির জন্য লবিং চলছে।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “বিগত সরকারের সময় সুবিধাভোগী অনেক কর্মকর্তাই এবার পদোন্নতির দৌড়ে রয়েছেন। তারা আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ এবং বিভিন্ন মহলে সুপারিশ করাচ্ছেন। তবে সরকার এবার যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি দিতে চায়।”
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বা দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। শুধু ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কাউকে দোষী মনে করা হবে না, তবে তাদের কাজকর্ম গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “বিগত সরকারের সময়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের একান্ত সচিবদের (পিএস) মধ্যেও যারা সৎ, দক্ষ এবং যোগ্য, তাদের চিন্তার কিছু নেই। তবে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাদের পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।” পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিষয়ে প্রতিবেদন নেগেটিভ হলে তাদের পদোন্নতি আটকে যেতে পারে।
যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি ঘিরে প্রশাসনে যেমন স্বচ্ছতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তেমনি তদবির ও রাজনৈতিক সুপারিশের দৌড়ঝাঁপও চলছে। শেষ পর্যন্ত মেধা ও যোগ্যতা নাকি তদবির ও প্রভাবশালী মহলের চাপে পদোন্নতি হবে—তা দেখার বিষয়।


