জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) সম্প্রতি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন সংঘটিত হয়েছে। এতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচারে গ্রেফতার, নির্যাতন এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। ওএইচসিএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ নিহত বিক্ষোভকারী মিলিটারি রাইফেল এবং মেটাল প্যালেট-লোড করা শটগানের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন।
পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ১১,৭০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ছিল, যাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকরা যৌথভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে, তারা পুলিশের সঙ্গে একত্র হয়ে বিক্ষোভকারীদের দমন করেছে, গ্রেফতার করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এবং নিয়মিত আদালতে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে।প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা অপরাধ করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রতি গভীর নজর রাখছে।


