জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদ নিয়ে সচিবালয়ে দিনভর চলা হট্টগোলের ঘটনায় ১৭ জন উপসচিবের বিরুদ্ধে শাস্তি সুপারিশ করা হয়েছে। এ সুপারিশ এসেছে একটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট থেকে, যা এই ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত হয়েছিল।
গত ১০ সেপ্টেম্বর, বেশ কয়েকজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা সচিবালয়ে ডিসি পদে নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। দিনব্যাপী এই ঘটনাটি সচিবালয়ে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা বিকেল নাগাদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হট্টগোল করেন। তাঁদের দাবি ছিল যে, তাদের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করতে হবে। দীর্ঘ আলোচনার পর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাঁদেরকে ডিসি হিসেবে পদায়নের আশ্বাস দেন, এরপর তারা তাঁর কক্ষ ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে কমিটি রিপোর্টে উল্লেখ করে যে, ১৭ জন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার আচরণ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শোভন ছিল না এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ড. মোখলেস উর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় এখন তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করছে। শাস্তি কী ধরনের হবে, তা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, সরকারি সেবা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যথাযথ আচরণ নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের আচরণ সরকারি শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


