Wednesday, June 24, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য হারানো অর্ডার ফেরাতে চট্টগ্রামে গার্মেন্টস জোন তৈরির পরিকল্পনা

হারানো অর্ডার ফেরাতে চট্টগ্রামে গার্মেন্টস জোন তৈরির পরিকল্পনা

বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর অর্ডার আবারও দখলে নিতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) চট্টগ্রামের চারটি এলাকায় বহুতল ভবনভিত্তিক গার্মেন্টস জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় অন্তত ২৫টি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কমপ্লায়েন্স জটিলতা এড়াতে এসব ভবনে আধুনিক ফ্লোর স্পেসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জেনারেটর, গ্যাস ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা রাখা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের জন্য জায়গা বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে বিজিএমইএ।

নানা সংকটে হারিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অর্ডার ফেরাতে চট্টগ্রামের পোশাক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরীর মুরাদপুর, বায়েজিদ, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে থাকবে একটি করে কারখানা।

বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) মেনে কমপ্লায়েন্ট ভবন নির্মাণ করা হবে। জেনারেটরসহ বিভিন্ন কমন সুবিধার ব্যয় ভাগাভাগি করা হবে। বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ বছরের সফট লোনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্ত হলে এ সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কারখানা পরিচালনার পাশাপাশি ভাড়ার অর্থ ডাউন পেমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় হবে। ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ভবনের মালিকানা উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ছয়তলা ভবনের ওয়ার্কিং স্পেস হবে অন্তত ৩০ হাজার বর্গফুট। প্রতিটি কারখানায় ৬০০ থেকে এক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। এজন্য প্রতিটি জোনে তিন থেকে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রফিক চৌধুরী বলেন, পাঁচ থেকে সাতটি কারখানা একসঙ্গে স্থানান্তর করা গেলে সেখানে বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বড় ব্র্যান্ডের কাজ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। এতে উদ্যোক্তারা ভালো মূল্য পাবেন এবং নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হবে। বর্তমানে যেখানে প্রায় ৩০০ কারখানা রয়েছে, ভবিষ্যতে তা ৫০০ থেকে ৭০০ কারখানায় উন্নীত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর দেশে তৈরি পোশাক রফতানি শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম থেকেই। তবে বিভিন্ন সংকটে গত চার দশকে এ খাতের রফতানি অংশীদারিত্ব ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ২০০ কারখানা।

বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রফতানির মধ্যে চট্টগ্রামের অংশ ১০ থেকে ১২ শতাংশ। তার মতে, বন্দরকেন্দ্রিক অবস্থানের কারণে রফতানিমুখী শিল্পের জন্য চট্টগ্রাম সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কেন্দ্র।

বর্তমানে চট্টগ্রামে দুটি ইপিজেডসহ বিভিন্ন এলাকায় চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় সরাসরি প্রায় আট লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। চট্টগ্রাম থেকে বছরে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের এক সভা ২৪ জুন, ২০২৬ বুধবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব...

শিক্ষার্থী নকল করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম...

শ্রম আদালতের মামলায় শুভ্রসহ চার আসামির জামিন মঞ্জুর

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতারের পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্র। একই মামলায়...

চীনের তালিয়ানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামের প্লেনারি সেশনে তারেক রহমান

চীনের তালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন...

Recent Comments