অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা রফিকুল আলম বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। চাকরির মেয়াদে তিনি অসাধু উপায়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে আসে।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, রফিকুল আলম তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় তিন কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছিলেন। তদন্তে দেখা যায়, তিনি তার নিকট আত্মীয়দের নামে বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এছাড়া তার নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
২০২২ সালের ১০ জুন দুদকের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান তেজগাঁও থানায় রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন। একটিতে তার বিরুদ্ধে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়, অন্যটিতে ৭০ লাখ টাকার সম্পদ গোপনের কথা উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন।
রায়ে বলা হয়, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের দায়ে রফিকুল আলমকে ১২ বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে সর্বোচ্চ ১২ বছর সাজা ভোগ করতে হবে।
আদালত রায়ে আরও বলেন, অবৈধভাবে অর্জিত দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। রায় ঘোষণার সময় রফিকুল আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পরপরই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দুদকের প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ রায় দুর্নীতিবাজদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”অন্যদিকে, রফিকুল আলমের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।


