জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক প্রদান করা হয়।
এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর)
সাহিত্য: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর)
সংস্কৃতি: নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর)
সমাজসেবা: স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর)
মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতি: মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর)
শিক্ষা ও গবেষণা: বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর
প্রতিবাদী তারুণ্য: আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)
পুরস্কারের জন্য মনোনীত একমাত্র জীবিত বিশিষ্ট ব্যক্তি বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর পুরস্কার গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি আজীবন কোনো রাষ্ট্রীয় পুরস্কার গ্রহণ করেননি, যা তার ব্যক্তিগত নীতির অংশ। সরকার তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে পুরস্কারের একটি রেপ্লিকা জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণের ঘোষণা দেয়।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান হিসেবে ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩২৪ জন ব্যক্তি ও ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে। এটি দেশের গুণীজনদের অবদানের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার একটি মাধ্যম।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, “জাতির উন্নতি ও অগ্রগতিতে যারা অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম উপায় এই স্বাধীনতা পুরস্কার। আমরা গর্বিত যে, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে পেরেছি।”
২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।


