টানা চার দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২৪৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম ৯ এপ্রিল (বুধবার) থেকে কার্যকর হবে।
৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। সেখানে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৭ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের জন্য এই দাম হবে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬৬৪ টাকা।
বাজুস জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত থাকবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে।
বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক পতনও স্বর্ণের দাম হ্রাসে বড় ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপের ঘোষণার পর স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৩,১৬৭ ডলারে পৌঁছালেও, পরবর্তীতে তা কমে এখন ৩,০১৪ ডলারে নেমে এসেছে।
এর আগে, গত ২৮ মার্চ সর্বশেষ স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ৫ বার কমানো হয়েছে। আর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬২ বার, যেখানে ৩৫ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমানো হয়।
উল্লেখ্য, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫৭৮ টাকায়, ২১ ক্যারেটের ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ১১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৮৬ টাকায়।


