রাজশাহীর সাংবাদিকরা মনে করেন, দেশে এখনও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা চর্চায় ভয় ও সেলফ সেন্সরশিপের সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সাংবাদিকতা: সংস্কার ও সম্ভাবনায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এই মত প্রকাশ করেন। সভাটির আয়োজন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘দৃক’। সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ সংকটাপন্ন। মাঠ পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন পক্ষের হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এমনকি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় গোপন করেও কাজ করতে হচ্ছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বর্তমানে সরকারের সমালোচনা বা ক্ষমতাসীনদের প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষত, ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা এবং পরবর্তী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমগুলো দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। এই ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত করছে। সাংবাদিকরা আরও বলেন, গণমাধ্যমে চাকরিচ্যুতি, মামলার ভয় এবং অর্থনৈতিক চাপে পড়ে অনেক সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে। সাংবাদিকরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশে বাধ্য হচ্ছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত না হলে, গণমাধ্যম সংস্কারের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করেন তারা।
সভায় বক্তারা জানান, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। গণমাধ্যমের টিকে থাকার জন্য গণতান্ত্রিক চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য। তারা বলেন, সংবাদমাধ্যমের সংকট দূর করতে হলে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকে গণমাধ্যমের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রয়োজন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমে বর্তমান যে সংকটময় অবস্থা বিরাজ করছে, তা সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, সংবাদমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে সঠিক সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো জোরদার করার আহ্বানও জানান তারা।


