ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গঠনতন্ত্র সংস্কার এবং ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ৯ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ ও সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। এর আগে রোববার (১২ জানুয়ারি) উপাচার্যের কাছে প্রস্তাবনা জমা দেয় সংগঠনটি।
শিবির নেতারা জানিয়েছেন, ডাকসু নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম সংস্কৃতি ও সিট বাণিজ্যের মতো সমস্যাগুলো দূর হবে। তারা জানুয়ারির মধ্যে ডাকসুর পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। শিবিরের ৯ দফা প্রস্তাবে ডাকসুর গঠনতন্ত্রে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দাবি করা হয়েছে। বিশেষভাবে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধারায় পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনা লালনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
সংগঠনটি দাবি করেছে, ডাকসু যেন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর স্বার্থরক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে কাজ করে।
এছাড়াও প্রস্তাবে ডাকসুর সভাপতির অতিরিক্ত ক্ষমতা হ্রাস এবং কার্যনির্বাহী পরিষদকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিবির ডাকসুর সম্পাদকীয় পদ পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিয়ে বলেছে, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক পদের নাম পরিবর্তন করে “স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক” করা উচিত।
সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন দুটি পদ সংযোজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে— “নারী ও সমতা বিষয়ক সম্পাদক” এবং “ধর্ম ও সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক”।
শিবির দাবি করেছে, বিদ্যমান সংসদের মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের ক্ষমতা সিন্ডিকেটের বদলে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্য একটি প্রস্তাবে, নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্য বিষয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সভাপতির অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
শিবির নেতারা বলেন, “ডাকসুর গঠনতন্ত্রের যেকোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হওয়া উচিত। সভাপতির একক সিদ্ধান্ত নয়, সংসদের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত ধরা হবে।”


