মাগুরায় ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অপূর্ব জাহাঙ্গীর জানান, শিশুটির প্রতি ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশুটি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়। পরদিন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
৭ মার্চ রাত থেকে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। গত শনিবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় তার অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে গেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। রোববার (১০ মার্চ) তাকে সিএমএইচের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) রাখা হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শিশুটির শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে না যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
শিশুটির মৃত্যুর পর পুরো দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “এ ধরনের অমানবিক অপরাধ আমাদের সমাজের জন্য এক কলঙ্ক। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।


