রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হতে পারে।
সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা খুবই বেশি। অন্যদিকে, বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি তাঁর অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অভিপ্রায় ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বঙ্গভবনের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, তিনি খুবই অসুস্থ। এ অবস্থায় তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা অসম্ভব। চলতি মাসেই দুদফায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। তার সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্ট ভালো আসেনি। হৃদরোগজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি তার নিউরোলোজিক্যাল সমস্যা ধরা পড়েছে।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের আভাস দিয়েছেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়টি দৃশ্যমান হতে পারে বলে বঙ্গভবন ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির পদে শপথ নেন। এ হিসাবে তিনি এখন পর্যন্ত তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব করেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী [১২৩(৩) অনুচ্ছেদ] পদত্যাগ মৃত্যু বা অপসরণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে এ তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


