শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরির কাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী জানিয়েছেন, তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। আগে চার দফায় ৫৬০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করা হলেও সেগুলো পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরির কার্যক্রম সরাসরি কোনো সরকারি নির্দেশে বন্ধ করা হয়নি। তবে অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এই প্রকল্পটি সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। সচিব ইসরাত চৌধুরী বলেন, “আমাদের করা তালিকা গেজেট হয়েছে, তবে এখন কোনো কাজ হচ্ছে না। কমিটির সঙ্গে যোগাযোগও কম। পরে আবার কাজ শুরু হতে পারে।”
২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি স্থগিত রাখে।
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই প্রকাশিত তালিকাগুলোর যাচাই-বাছাই চলছে। তিনি বলেন, “তালিকা তৈরির কাজ বন্ধ নয়, নতুন নাম এলে তা যাচাই করা হচ্ছে। আগের কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হবে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালে গঠিত কমিটি চার দফায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নামের গেজেট প্রকাশ করেছিল। সর্বশেষ চতুর্থ তালিকায় ২৪ মার্চ ১১৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম যুক্ত হয়।
ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসির মামুন এবং মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. এম এ হাসান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। ডা. হাসান বলেন, “একটি জাতি গড়ে ওঠে তার দর্শনের ওপর। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন জাতির চিন্তার মূলধারা। তালিকা তৈরি বন্ধ করে দিলে পরবর্তী প্রজন্ম তাদের চিনতে পারবে না।”
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এবং বিশেষত ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যা করে। যদিও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা নিয়ে একমত হওয়া কঠিন, গবেষকদের মতে, এটি এক হাজারেরও বেশি।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বর্তমান প্রজন্মের জন্য এই তালিকা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরির কাজ পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই তালিকা শুধু ইতিহাস সংরক্ষণ নয়, জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


