ব্যাংককে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া নির্মাণাধীন ৩৩তলা ভবনের ঘটনায় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। কারণ, এই ভবনের নির্মাণ কাজ করছিল যে দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান—ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি ও চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ—তারা বাংলাদেশের মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতু প্রকল্পেও জড়িত। ফলে প্রশ্ন উঠছে—প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের এই মেগা প্রকল্পগুলো টিকে থাকবে তো?
গত ২৮ মার্চের ভূমিকম্পে মাটিতে মিশে যায় ব্যাংককের একটি নির্মাণাধীন ভবন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের উপকরণ এবং ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে থাই সরকার।
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর একটি অংশ নির্মাণে কাজ করেছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। অন্যদিকে, ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করেছে ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্বল নির্মাণের অভিযোগ উঠায় বাংলাদেশে এই মেগা প্রকল্পগুলোর টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক তাহমীদ মালিক আল হুসাইনী। তিনি বলেন, “কলাম যত সরু ও উঁচু হবে, তার স্থিতিশীলতা তত প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমরা অতীতে যমুনা সেতুর ডিজাইনেও ত্রুটি দেখেছি। কাজেই বিদেশি ঠিকাদারদের ওপর পুরোপুরি ভরসা করা যায় না।”
তবে বিপরীত মত দিয়েছেন বুয়েটের আরেক অধ্যাপক ড. খান মাহমুদ আমানত। তার মতে, “সরকারি মেগা প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে কঠোর তদারকি থাকে। এখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যৌথ নজরদারি ও নিরীক্ষার মাধ্যমে কাজ হয়ে থাকে। কাজেই এসব প্রকল্পের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩৫টি ছোটখাটো ভূমিকম্প হয়, তবে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই বড় প্রকল্পগুলোর মান যাচাই ও নিয়মিত নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।


