সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসার উদ্দেশে বিদেশ যাচ্ছেন। তাঁর এই বিদেশ যাত্রা শুরু হবে লন্ডনে, যেখানে তিনি তাঁর ছেলে তারেক রহমানের কাছে থাকবেন। বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। লন্ডনে অবস্থানের পর তাঁকে তৃতীয় একটি দেশে পাঠানো হবে, যেখানে একটি ‘মাল্টি ডিসিপ্ল্যানারি মেডিকেল সেন্টারে’ ভর্তি করা হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খালেদা জিয়াকে ১৭ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল দুর্নীতির মামলায়। তবে গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে তাঁর দণ্ড মওকুফ করে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। মুক্তির পরদিন ৭ আগস্ট বিএনপির সমাবেশে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন তিনি। এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২১ আগস্ট গুলশানের বাসায় ফিরেন। তবে মুক্তির পরও তিনি অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া এখনও সুস্থ নন। তিনি আগে বন্দি ছিলেন, তবে বর্তমানে মুক্ত। দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তারা স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন ও দমন-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে, যা খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিচ্ছে। খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবি পরিবারের পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও ছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে বিদেশে যেতে দেয়নি। তবে এখন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর তাঁর বিদেশ যাত্রার পথ খুলে গেছে।
৭৯ বছর বয়সি খালেদা জিয়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি এবং ডায়াবেটিস অন্তর্ভুক্ত। সবশেষ গত ৮ জুলাই গভীর রাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছেন।
এখন খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা এবং চিকিৎসার দিকে নজর দিচ্ছেন তাঁর পরিবার এবং দলের নেতারা। আশা করা হচ্ছে, বিদেশে সঠিক চিকিৎসা পেলে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখে তাঁর মুক্তি এবং বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেশের জনগণের মধ্যে এক বিশেষ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


