বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংস্থা বাংলাদেশে নিরাপত্তা খাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
“আফটার দ্য মনসুন রেভ্যুলুশন” শিরোনামের ৫০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, র্যাবের মতো একটি বাহিনী শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনেই জড়িত নয়, বরং এটি রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, র্যাবের একাধিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার। একটি সাক্ষাৎকারে র্যাবের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, বাহিনীটি অনেক মানুষকে গুম ও হত্যা করেছে। এসব ঘটনা প্রায়শই বন্দুকযুদ্ধ বা অপরাধীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হিসেবে দেখানো হতো।প্রতিবেদনটিতে র্যাবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে বলা হয়, বাহিনীটি সঠিক কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে হত্যা ও গুমের মতো কাজগুলো চালিয়ে গেছে। এমনকি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি আরও আলোচনায় আনে।
এইচআরডব্লিউর মতে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং তাদের কাজকে আরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও সুপারিশ করে, অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কারিগরি সহায়তা নিয়ে এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অতীতের নজির এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধ করতে এই বাহিনীর বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।
২০০৪ সালে র্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিকল্প হিসেবে। কিন্তু শুরু থেকেই এটি নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সম্মুখীন। এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন বলছে, এ ধরনের বাহিনী বিলুপ্ত করা না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ সরকার র্যাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।


