ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আন্দোলন স্থগিতের এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে, সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ড. মামুন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেন। একই সঙ্গে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার এবং তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মইনুল হোসেন বলেন, “আমাদের দাবিগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূরণ করা না হলে নিউমার্কেট থানা ঘেরাও করা হবে। একই সঙ্গে সাত কলেজের সম্মুখ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না। “মইনুল আরও বলেন, “ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। এ ঘটনার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ড. মামুন আহমেদ আমাদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন।”
এই ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ঢাবি প্রশাসন তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রশাসনের এমন আশ্বাসের ভিত্তিতেই আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণার সময় শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণের অগ্রগতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো গড়িমসি করা হয়, তবে তারা নতুন করে আন্দোলনে নামবেন।
উল্লেখ্য, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি ছিলো শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, দায়ী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার, এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিতে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হলেও শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আবারও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।


