থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেকের (বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) ষষ্ঠ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এবং মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ও স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎটি হয় অধ্যাপক ইউনুসের অবস্থানরত হোটেলে। আলোচনার শুরুতেই অধ্যাপক ইউনুস ২৮ মার্চ মিয়ানমারে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশ সব সময় প্রতিবেশী দেশের মানুষের পাশে রয়েছে। আমাদের উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ভূমিকম্প-পরবর্তী মুহূর্তেই জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে এবং এ কার্যক্রম আঞ্চলিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধ থেকেই পরিচালিত হয়েছে।সাক্ষাতে মিন অং হ্লাইং অধ্যাপক ইউনুসকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের নেতৃত্বে সংস্থাটি নতুন গতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে আবারও আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার নাম-ঠিকানা যাচাই করেছে এবং প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে, যাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন আজও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, ইউনুস-হ্লাইং সাক্ষাৎ শুধু মানবিক সহায়তার বার্তা নয়, বরং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্রেও নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক জোট যদি মানবিক সংকট মোকাবেলায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে তা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভবিষ্যৎ কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হবে।


