ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতাধীন মেট্রোরেল-৬ চালু হওয়ার দেড় বছরের মাথায় যাত্রীসেবায় নানা অসংগতি সামনে আসছে। মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর পর্যন্ত চলা এই রুটে একক যাত্রার টিকিট এবং এমআরটি পাস ব্যবহারে প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়ছেন নগরবাসী।
গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) মিরপুরের কাজীপাড়া মেট্রোস্টেশনে টিকিট কাটতে গিয়ে এমনই ভোগান্তির মুখোমুখি হন যাত্রীরা। টিকিট ভেন্ডিং মেশিনে (টিভিএম) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘসময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। কল বাটন চাপলেও দায়িত্বশীল কাউকে দেখা যায়নি অন্তত ১৫ মিনিট পর্যন্ত। অবশেষে একজন কর্মকর্তা এসে সমস্যা সমাধান করলেও কিছুক্ষণ পরই আবার মেশিন বিকল হয়ে পড়ে।
এই ধরনের পরিস্থিতি নিয়মিত ঘটছে বলে জানান নিয়মিত যাত্রীরা। অনেকে অভিযোগ করেন, এমআরটি পাসের ক্ষেত্রে রিচার্জ সুবিধার সীমাবদ্ধতা, ব্যালেন্স যাচাইয়ের অসুবিধা এবং তথ্য হালনাগাদ না হওয়ায় তারা নানাভাবে সমস্যায় পড়ছেন।
তবে এই সংকটের মধ্যেই এক তরুণ উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করা ‘এমআরটি বাড্ডি’ অ্যাপ কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। যদিও এই অ্যাপে রিচার্জ করা না গেলেও, ব্যালেন্স ও ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য সহজেই দেখা যাচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে এক তরুণ নিজ উদ্যোগে এমন সমাধান দিতে পারে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন এখনো যাত্রীবান্ধব অ্যাপ চালু করতে ব্যর্থ?
ডিএমটিসিএলের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রউফ জানান, “আমরা জাপানের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে একটি মোবাইল অ্যাপ আনতে যাচ্ছি। প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই অ্যাপ চালুর বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “মেট্রো প্রকল্পে শুরু থেকেই পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় দক্ষতা কাজে লাগালে খরচ কমে আসত এবং স্থায়ী সমাধান পাওয়া যেত।”
যাত্রীদের অভিযোগ আর প্রযুক্তিগত জটিলতা সামনে এনে প্রশ্ন জাগে—উন্নত ব্যবস্থাপনায় সহজ ও নিরবিচারে যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারবে তো ঢাকার মেট্রোরেল?


