বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২০ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের অবদান স্মরণ করেন। তিনি দাবি করেন, মুজাহিদসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য দেওয়া হয়েছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন আপসহীন নেতা।” তিনি জানান, মুজাহিদ দেশব্যাপী গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মুজাহিদের নেতৃত্বে, ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং মন্ত্রণালয়ের নানা ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন করেন।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে এবং মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যে বিচারক মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড দেন, তিনি নিজেই দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন।” ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অংশ ছিল, যার লক্ষ্য ছিল জামায়াতকে নেতৃত্ব শূন্য করা।
২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জামায়াত আমির বলেন, “শহীদ মুজাহিদসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের রক্তের বিনিময়ে একদিন এ দেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, “জাতি গভীরভাবে মুজাহিদের শূন্যতা অনুভব করছে, এবং তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”
এছাড়া, ডা. শফিকুর রহমান তার বিবৃতিতে মহান রাব্বুল আলামীন থেকে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের জন্য উচ্চ মর্যাদা এবং জান্নাতে স্থান কামনা করেন। তিনি জামায়াতের সর্বস্তরের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা মুজাহিদের অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে অবিচল থাকে এবং দেশের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।


