রমজান শুরু হতেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে মুরগি, খেজুর, বেগুন, ছোলা, শসা, লেবুসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রীর দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোক্তারা।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বাড্ডা ও নতুন বাজার ঘুরে এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি, সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২২০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম উঠেছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি বড় দানার মসুর ডালের দাম ছিল কেজিতে ৮০ থেকে ১০৫ টাকা, যা বেড়ে হয়েছে ৮৫ থেকে ১১০ টাকা। দেশি রসুনের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা রসুন কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজ ও আদার দামও কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ বেগুনের বাজারে অস্থিরতা বেশি। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং শসার দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাঁচামরিচ কিনতে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা।
খেজুরের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সাধারণ মানের খেজুর ১৮০ থেকে ৫৫০ টাকার পরিবর্তে এখন ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর বাজারে অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি। কারওয়ান বাজারে এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ১৬০ টাকায়। বাড্ডা ও রামপুরার খুচরা দোকানে বড় একটি লেবু বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।
মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, রুই ও কাতল মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়, আর মাঝারি আকারের রুই বা কাতল ৪০০ টাকার নিচে মিলছে না।
ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজানে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা। নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরে এক দিনমজুর বলেন, একটি লেবুর দাম ৫০ টাকা হলে তার মতো মানুষের পক্ষে ইফতারে শরবত বানানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রমজানে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমে যাওয়াই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে দাবি তাদের।
রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে।


