Friday, May 1, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য মূলধন সংকটে ২৩ ব্যাংক, ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা

মূলধন সংকটে ২৩ ব্যাংক, ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা

চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে দেশের ২৩টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের সম্মিলিত ঘাটতির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ২৬০ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূলধন ঘাটতি কেবল আর্থিক দুর্বলতার চিত্র নয়, বরং এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের গভীর কাঠামোগত সমস্যার প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থাপনা, দুর্বল পরিচালনা পর্ষদ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব এই অবস্থার জন্য দায়ী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন করে মূলধন ঘাটতির মধ্যে পড়েছে একাধিক ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে ২৩টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতিতে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের, যার ঘাটতির পরিমাণ ১৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। এর পরেই রয়েছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউনিয়ন ব্যাংক, তাদের ঘাটতি ১৭ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ঘাটতি ১২ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা আরেক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭ হাজার ৭৯০ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬ হাজার ৯৩৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, এস আলমের দখলে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ৬ হাজার ৪৫৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি ৫ হাজার ৮২২ কোটি, পদ্মা ব্যাংকের ৫ হাজার ১৭০ কোটি ৭০ লাখ, রূপালী ব্যাংকের ৪ হাজার ৪৭০ কোটি, এস আলমের দখলে থাকা গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজার ৯৮০ কোটি ৬১ লাখ, এবি ব্যাংকের ৩ হাজার ৬৯৩ কোটি এবং বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৩ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে তারা মূলধন ঘাটতি পূরণের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা চাইবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত ও কার্যকর না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। এরমধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ১৭ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ১৭ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। আজ শুক্রবার (১ মে) দুপুর...

পল্টনে শ্রমিক সমাবেশ আজ লাখো মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা শ্রমিক দলের

ঢাকায় আজ পহেলা মে শ্রমিক সমাবেশে প্রথমবারের মতো বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির প্রত্যাশা...

রূপালী ব্যাংকের লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি রূপালী ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ব্যাংকটি আলোচিত বছরের...

চতুর্থ প্রান্তিকে আদানি পাওয়ারের মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ

বিদ্যুৎ চাহিদার প্রতিকূলতার মধ্যেও চলতি অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেডের মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬...

Recent Comments