জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, ‘মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদ’ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাদের লড়াই চলবে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) মুন্সীগঞ্জে এক পথসভায় তিনি বলেন, “হামলা-মামলা দিয়ে এনসিপিকে দমন করা যাবে না। দেশ গঠনের নতুন অধ্যায়ের জন্য আরেকটি লড়াই আসছে—আমরা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গোপালগঞ্জে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। এমন আরও ১০টি জায়গায় হামলা হলেও, আমাদের দমন করা যাবে না। ফ্যাসিবাদ ও মুজিববাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে।”
এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সংগঠিত থাকার আহ্বান জানান এবং আগামী দিনে আরও বৃহৎ আন্দোলনের ইঙ্গিত দেন।
সভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দেখে মরতে চাই।” তিনি অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু গোপালগঞ্জে নয়, দেশের যেকোনো জায়গায় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখে দিতে হবে।”
সারজিস বলেন, “দেশ এখনো প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হয়নি। যদি ফ্যাসিবাদ নির্মূল না হয়, তবে স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থাকবে। যারা দেশের বাইরে বসে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহও। তিনি বলেন, “দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে, তাই এখনই সময় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।” তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ করে বলেন, “নেতা নয়, নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র গড়তে হবে। সবাইকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক ছাতার নিচে আসতে হবে।”
হাসনাত জানান, আগামী ৩ আগস্ট জাতীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে “জুলাই ঘোষণাপত্র” আদায়ের কর্মসূচি পালিত হবে। সভায় উপস্থিত নেতারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ‘ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ’ গড়ার আহ্বান জানান এবং মুজিববাদী রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এনসিপি নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট—তারা রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পরোয়া না করে ভবিষ্যতের আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে এগিয়ে যেতে চায়।


