বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তন আনতে মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ৫০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক আর্জেন্ট এলএনজি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে আর্জেন্ট এলএনজি জানায়, লুইজিয়ানায় তাদের বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণাধীন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার সঙ্গে এই চুক্তিটি বাধ্যবাধকতাহীন হলেও প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে।
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)-র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “এই চুক্তি বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি কেবল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করবে।” জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শিল্প-কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সমাধানের পথে হাঁটছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এলএনজির দাম বেড়ে যায়, যার ফলে বাংলাদেশকে কয়লার ব্যবহার বাড়াতে হয়।
এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কাতার এনার্জি এবং এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির আওতায় বছরে ১০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়, যা ২০২৬ সালে কার্যকর হবে। তবে নতুন মার্কিন চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ববাজারে এলএনজির সহজলভ্যতা নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি দেশকে জ্বালানি সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার পথ দেখাবে।
সরকার আশা করছে, এই চুক্তি দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে, যা শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


