রাজধানীর বাজারে এক বছরের ব্যবধানে মাছ, মুরগি, তেল ও সবজির দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ, যাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার বড় অংশই এসব পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।
এক বছর আগে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৩০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায়। একইভাবে মাঝারি আকারের রুই মাছ, যা আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না; আকারভেদে দাম ৪০০ টাকার কাছাকাছি।
শুধু রুই নয়, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও চিংড়ি মাছের দামও বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া শিং, পাবদা ও পোয়া মাছের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
বিক্রেতাদের দাবি, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা লোকসানে পড়েছেন। ফলে অনেকেই সোনালি মুরগি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। এর সঙ্গে রোগের প্রাদুর্ভাব যুক্ত হয়ে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, যা দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন।
সবজির বাজারেও একই চিত্র। গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতে চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বরবটি ও ঢ্যাঁড়সের মতো সবজির দাম বেশি রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।
এদিকে ভোজ্যতেল ও চিনির দামও বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ প্রায় দুই মাস ধরে কম থাকায় ডিলার পর্যায়ে লিটারপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি খোলা চিনি বর্তমানে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগেও ৫ টাকা কম ছিল।
রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে ক্রেতা হাজি আমান জানান, “আগে ৯৪৫ টাকায় পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল কিনতাম, এখন তা ৯৫৫ টাকা লাগছে। মাছ-মুরগির দামও বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে খরচ কমাতে বিভিন্ন জায়গায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।”
সামগ্রিকভাবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে এখন টিকে থাকতে গিয়ে খরচে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে হচ্ছে।


