শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী, বর্তমানে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। গণভবন ছাড়ার পর থেকেই তার এই অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’ একটি প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় দুই মাস ধরে নয়াদিল্লির লুটিয়েনস বাংলো জোনের একটি বিশেষ সেইফ হাউসে শেখ হাসিনাকে রাখা হয়েছে। ভারতের অভিজাত মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতোই একটি সুরক্ষিত আবাসে তিনি অবস্থান করছেন, যেখানে তার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
ভারতীয় সাংবাদিকদের এ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানান, শেখ হাসিনাকে ভারত “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে বিবেচনা করে। তার এই নির্বাসনকালীন অবস্থানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন নিরাপত্তাজনিত কারণে।”
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। আন্দোলনকারীরা তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন এবং জুলাই-আগস্ট মাসে এরই প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ছাত্র আন্দোলনের সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অসন্তোষ আরও তীব্র হয়।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে আলোচনার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লির লোধি গার্ডেনে মাঝে মাঝে হাঁটতে বের হলেও তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হচ্ছে। দ্য প্রিন্ট শেখ হাসিনার অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করলেও সুনির্দিষ্ট ঠিকানা প্রকাশ থেকে বিরত থাকে নিরাপত্তার কারণে। শেখ হাসিনার এই নির্বাসন ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দিকে এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা চলছে।


