আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য রূপা হকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া সংসদ ও ভুয়া নেতৃত্বের অধীনে দেশ পরিচালিত হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশের জনগণ তাদের কণ্ঠ ফিরে পেয়েছে এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য দুটি সময়সীমা রয়েছে। একটি এ বছরের ডিসেম্বরে এবং অন্যটি আগামী বছরের মাঝামাঝি। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে রূপা হক বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যেতে দেখে আমি উৎসাহিত হয়েছি।”
আলোচনায় ব্রিটিশ এমপি আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আশা করেন, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, দেশে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যানও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। প্রধান উপদেষ্টার এ আশ্বাস দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


