রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রমেই বেড়ে চলেছে শাক-সবজি, মাছ, ডিম ও মুরগির দাম। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, স্বল্প আয়ের মানুষদের পক্ষে বাজারের এই চড়া দামের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা দারুণ কঠিন। বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, “বাজারে কোনো পণ্যের দাম কম নেই। যে টাকা আনা হয়, তা পুরোপুরি খরচ হয়ে যাচ্ছে। দরদাম করার সুযোগও নেই।”
রাজধানীর নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির কেজি দাম সপ্তাহে বেড়ে ১৭০–১৮০ টাকা ছুঁয়েছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০–৩৪০ টাকা, সাদা কক ৩০০ টাকা, লাল কক ২৮০–৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম ৬০০–৭০০ টাকা। ডিমের বাজারেও দাম চড়া। লাল ডিমের প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, সাদা ডিম ১৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২৩৫ টাকায়।
সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গোল বেগুনের দাম কেজিতে ১৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০–৮০ টাকা, টমেটো ১৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৭০–৮০ টাকা। পটল ও ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৬০–৭০ ও ৪০–৫০ টাকায়। শসা ৫০–৭০, পেঁপে ২০–২৫, বরবটি ৮০–১০০ এবং গাজর ৭০ টাকায় মিলছে। শাক-সবজিতেও দাম বেড়েছে। লাউ শাক ৪০–৫০, পুঁইশাক ৩০–৪০, ডাঁটাশাক ২০–২৫, কলমি শাক ১৫, লালশাক ২০–৩০ এবং পাটশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে দাম স্থিতিশীল হলেও আগের চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২,২০০–৩,০০০ টাকায়। অন্যান্য মাছের মধ্যে বোয়াল ৭৫০–৯০০, কোরাল ৮৫০, আইড় ৭০০–৮০০, চাষের রুই ৩৮০–৪৫০, কাতল ৪৫০, পাঙাশ ১৮০–২৩৫, ট্যাংরা ৭৫০–৮০০, কাঁচকি ৬৫০–৭০০ এবং মলা ৫০০–৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “অনেক ব্যবসায়ী অতি মুনাফা করছে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকা সত্ত্বেও তারা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করছে। সরকারের তদারকির অভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতি, মৌসুমি প্রভাব ও আমদানির অভাব মিলিয়ে বাজারে দাম ওঠানামা করছে। ক্রেতাদের জন্য শাক-সবজি থেকে মাছ-মুরগি পর্যন্ত নিত্যপণ্যের বাজার এখন হিমশিম খাচ্ছে।


