দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র।
আগামীতে যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখতে না পারে, সেজন্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তন করে প্রি-পেইড মিটার বসাচ্ছে।
এরমধ্যে গত মার্চ মাস পর্যন্ত ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং তাদের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ২ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আর বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া রয়েছে ৭ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে মিটিং করে, চিঠি দিয়ে, এমনকি আইনি পদক্ষেপ নিয়েও এই বকেয়া বিল আদায় করতে পারছে না বিতরণ কোম্পানিগুলো।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘সকল পর্যায়ে বকেয়া আদায়ে চেষ্টা চলছে। এজন্য অর্থ বিভাগকে বলা হয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পরিশোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে।’
কর্মকর্তারা বলেন, বকেয়া পরিশোধের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অর্থ বিভাগ যাতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রাখে, সেই সুপারিশ করে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বকেয়া থাকা বিল আদায়ে বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ এ বছর দুইবার সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধানদের কাছে আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। ওই আধাসরকারি পত্রে তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এ বকেয়ার কারণে সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ওই পত্রে তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহককে বিতরণ করে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে বিতরণকারী সংস্থাগুলোকে বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে।
চীন ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। সময়মতো অর্থ না পেলে কয়লা আমদানি ব্যাহত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির (বিসিপিসিএল) একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সংকটে পায়রা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র। এর উৎপাদন ব্যাহত হলে গরমে প্রচণ্ড লোডশেডিং হবে। এ ছাড়া ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রায় চার হাজার কোটি টাকা; রামপাল, এস আলম, মাতারবাড়ীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের বকেয়া প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিপিডিবি পাবে ৪৫৭ কোটি টাকা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পাওনা ২৩২ কোটি টাকা। এছাড়া ডিপিডিসি ৭৮৮ কোটি, ডেসকো ৪৩৯ কোটি, ওজোপাডিকো ১৯১ কোটি ও নেসকো ৩৬৭ কোটি টাকা পাবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৯২৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) ও এই বিভাগের আওতাধীন সংস্থাগুলোর কাছে।
সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৭৭ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সংস্থাগুলোর। কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে এই মন্ত্রণালয়ের মোট বকেয়া অনেক বেড়েছে। এ কার্যালয়ের অধীনে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি এবং ভাসানচরের একটি শরনার্থী ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল সরকার পরিশোধ করে থাকে। মোহাম্মদপুরের বিহারী কাম্পের ২৪০ কোটি টাকা বকেয়াও এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে।


