মানিকগঞ্জে সরকারি কোষাগার থেকে ৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হিসাব সহকারী ইমরান নাজির এবং জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা। ২০১৮ সালে কর্মজীবন শুরু করা ইমরান নাজিরের বিরুদ্ধে অভিযএ ঘটনা উদ্ঘাটিত হয় ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে, যখন সিনিয়র স্পেশাল আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ পাঠানো হয়। মামলার বাদী, বিচারকের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সুজন শিকদার জানান, ইমরান নাজিরের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি চক্র এই জালিয়াতি কার্যক্রম চালিয়েছে। চক্রের মধ্যে তার আত্মীয়স্বজন, আইনজীবী, ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও অন্যান্য সহযোগী সদস্যরা যুক্ত ছিলেন।
সুজন শিকদারের অভিযোগ অনুযায়ী, ইমরান নাজির ২০১৯ থেকে ২০২4 সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার ভুয়া পেমেন্ট অর্ডার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন। আদালতের ৬ আইনজীবীও এই কাজে সহায়তা করেছেন এবং তাদের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাচার হয়েছে। চক্রটি শতাধিক ব্যক্তির নামে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা তুলেছে, যার পরিমাণ ৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
ইমরানের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামী জানিয়েছিল যে, চাকরি ছাড়াও জমিজমা এবং গাড়ির ব্যবসা রয়েছে। তবে বর্তমানে জানা গেছে, ইমরান তার অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন এবং তদন্তের সময় দুবাই চলে গেছেন। তার স্ত্রী আফিফা বলেন, ইমরান কখনও তার অপরাধের ব্যাপারে কিছু বলেননি এবং মূল হোতা হিসেবে তার চাচাতো ভাই ও বন্ধুর নাম উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের ডিএএফও মো. নজরুল ইসলাম, সুপার দেওয়ান ফেরদৌস ওয়াহিদ, এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা রয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বারের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।
মানিকগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আজিজ উল্লাহ জানিয়েছেন, এমন ঘটনা আইনজীবী পেশায় নজিরবিহীন। তিনি আরও বলেন, সরকারী টাকা আত্মসাৎ হওয়া পুরো বিচার বিভাগকেই ভাবিয়েছে।
এখন এই মামলাটি দুদক তদন্ত করবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন ও মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।


