বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) দুই চিকিৎসকসহ ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সংগঠিত একটি হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের সামনে সংঘটিত হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন কার্ডিওলজি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তোরাব আলী মিম এবং চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রিয়াজ সিদ্দিকী প্রাণ। এ ছাড়া পরিচালক (হাসপাতাল) অফিসের দুইজন কর্মচারী নিতীশ রায় ও মো. সাইফুল ইসলামও বরখাস্ত হয়েছেন।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন এমএলএসএস কাজী মেহেদী হাসান, সহকারী ড্রেসার শহিদুল ইসলাম, সুইপার সন্দীপ, অফিস সহকারী উজ্জ্বল মোল্লা, ড্রাইভার সুজন বিশ্ব শর্মা, এমএলএসএস ফকরুল ইসলাম জনি, কাস্টমার কেয়ার এটেনডেন্ট রুবেল রানা, স্টাফ নার্স শবনম নূরানী, ওয়ার্ড মাস্টার অফিসের শাহাদাত, কার্ডিওলজি বিভাগের এমএলএসএস মুন্না আহমেদ এবং আনোয়ার হোসেন। অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বেতন ও ভাতাদি পাবেন। তবে তাদের চাকরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধির অধীনে নিয়ন্ত্রিত হবে।
এ সিদ্ধান্ত ৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে আদেশে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সহিংসতার মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


