২০২৪ সালে পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায় হয়েছে ৮৩৮.৫৬ কোটি টাকা। এ বছর ৬৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭৮টি যানবাহন পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছে। সেতু থেকে আয়কৃত এই টোলের মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় জানান, সেতু চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লাখ ৮ হাজার ৯৬৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) ২ হাজার ৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার রাজস্ব সংগ্রহ করেছে।
এদিকে সেতু নির্মাণে সরকারের দেওয়া ঋণ পরিশোধও শুরু হয়েছে। জানা গেছে, বিবিএ এখন পর্যন্ত ১০ কিস্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগকে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল থেকে এই ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রতি অর্থবছরে চারটি কিস্তি দেওয়া হচ্ছে, যার প্রতিটি কিস্তির পরিমাণ ১৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ১৪ জুন পদ্মা সেতুতে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়। ওই দিন ৪৪ হাজার ৩৩টি যানবাহন পারাপার করে, যার মাধ্যমে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা আয় হয়।
পদ্মা সেতু নির্মাণে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক দাতাগোষ্ঠীর অর্থায়ন প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। এই অর্থের মধ্যে সরকার ৩০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেয় এবং বাকি ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে এক শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়।
২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, বিবিএকে ৩৫ বছরের মধ্যে ১৪০টি কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রতি অর্থবছরে ন্যূনতম ৬৩৪ কোটি টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। পদ্মা সেতু এখন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকার আশা করছে, সেতুর মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব দ্রুত ঋণ পরিশোধে সহায়তা করবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি আনবে।


