বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ তুলেছেন, কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারিতা, আইন বহির্ভূত কার্যক্রম এবং কর্মীদের প্রতি দুর্ব্যবহার পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারের উন্নতির বদলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ উপেক্ষা করছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং তারা দাবি করেছেন, কমিশনের সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও অন্যান্য কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, কমিশনের অভ্যন্তরে দমনমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে। তারা আরও জানিয়েছেন, যদি কমিশন পদত্যাগ না করে, তাহলে তারা আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে কর্মবিরতি পালন করবে।
অভিযোগ রয়েছে, পুঁজিবাজারকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পূর্ববর্তী বিএসইসি আইন, ২০২২-এর খসড়ায় তড়িঘড়ি করে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের আড়ালে স্বেচ্ছাচারীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা কমিশনের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের সঙ্গে দাসসুলভ আচরণ করা হচ্ছে এবং কমিশনের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
১. বর্তমান কমিশনকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
২. কমিশন কর্তৃক সেনাবাহিনীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ডেকে এনে লাঠিচার্জ করানোর ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপে বিএসইসির জন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে।
৪. কমিশনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন, যদি তাদের দাবি দ্রুত পূরণ না হয়, তাহলে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং বিনিয়োগকারীরা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই, সংকট নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।


