বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রাক্তন প্রধান মাসুদ বিশ্বাসকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহায়তায় তাকে রাজধানীর একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। দুদকের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে মাসুদ বিশ্বাসকে গ্রেফতার দেখানো হয়। জানা গেছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। মামলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একটি দল তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুদকের দায়ের করা এজাহার অনুসারে, মাসুদ বিশ্বাস তার নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা নিজের দখলে রেখেছেন। এই অপরাধ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য। এছাড়া, তার স্ত্রী কামরুন নাহারের নামে ৭২ লাখ টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়ার পর পৃথক মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুদক আরও জানিয়েছে, এই দম্পতির নামে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। তদন্তে এসব সম্পদের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সম্পদের অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ বিষয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন গুলশান আনোয়ার প্রধান। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মামলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাসুদ বিশ্বাস ও তার স্ত্রী তাদের আয়ের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ বিশ্বাসের পরিবারের নামে থাকা সম্পদ এবং তাদের আয়-ব্যয়ের অমিল তদন্তে উঠে এসেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার শুনানি শেষে মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


