সরকার সম্প্রতি বাতিল হওয়া কিছু সাংবাদিক অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তার লক্ষ্যে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড প্রদান একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তবে নীতিমালা অনুযায়ী সম্প্রতি যাচাই-বাছাই করে কিছু কার্ড বাতিল করা হয়েছে।
বাতিল করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন নীতিমালা লঙ্ঘন। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন কার্ড নবায়ন না করা, প্রতিষ্ঠানের কোটার অতিরিক্ত কার্ড গ্রহণ, পেশাগত মানদণ্ড রক্ষা না করা, অপসাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকা, কার্ডের অপব্যবহার, এবং ফৌজদারি মামলায় জড়িত থাকা।
এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কার্ড নিয়েছেন অথবা অপেশাদার আচরণ করেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁস, সাংবাদিকতার মানদণ্ডে অবদান রাখতে ব্যর্থ হওয়া, এবং ভুয়া খবর বা গুজব ছড়ানোসহ বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে তথ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোনো পেশাদার সাংবাদিক তার কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে ন্যায়সঙ্গত মনে না করলে তিনি লিখিতভাবে আবেদন করতে পারবেন। তার আবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সরকার এই উদ্যোগের মাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকতার মান রক্ষা এবং সুষ্ঠু তথ্য সরবরাহের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। তথ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় নীতিমালা মেনে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ সাংবাদিকতার পরিবেশে শৃঙ্খলা আনতে এবং অপসাংবাদিকতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটি সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার হিসেবে অভিহিত করছেন।


