দুইবার আবেদন করেও মধ্য এশিয়ার দেশ তাজিকিস্তানের ভিসা পাননি নারায়ণগঞ্জ সদরের বাসিন্দা নাদির হোসেন। শেষবার তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করেও তিনি ভিসা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) হতাশার কথা লেখেন।
তাজিকিস্তানের ভিসা একসময় পাওয়া সহজ ছিল উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আজ আমি তাজিকিস্তানের ই-ভিসার জন্য রিজেক্ট হয়েছি। এই ভিসাটিকে সাধারণত বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের জন্য সবচেয়ে সহজ ভিসাগুলোর একটি বলে ধরা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশিদের জন্য মূলত দুই ধরনের ভিসা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর একটি ভ্রমণ ভিসা, অন্যটি কর্মী ভিসা।
ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক দেশ বর্তমানে ভিসা রেশিও কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রধান কারণ, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ভিসার আবেদন করা, ভিসা পাওয়ার পর সে দেশে অতিরিক্ত অবস্থান করা এবং তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাওয়া। বিষয়টি নিয়ে সিগনেচার ওভারসিজের ম্যানেজার পরশ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব দেশই ভিসার রেশিও অনেক কমিয়ে দিয়েছে।
ট্রাভেল এজেন্সি মালিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ বলেন, ‘এটা আসলে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দেশে গিয়ে পালিয়ে যাওয়া, ভ্রমণ ভিসায় গিয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান করে চাকরি করা—এসব কারণে মূলত ভিসা জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপের ভিসা আগেও কম দিত। ২০২৪ সালের আগে ইউরোপের ভিসা কিছুটা বাড়লেও পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় তারা ভিসা আবেদন নেওয়াই কমিয়ে দেয়। টুকটাক যা নেয় তারও অন্তত ৮০ শতাংশ বাদ পড়ে যায়। এ ছাড়া এখন তো দিল্লিতে বাংলাদেশের যাত্রীরা যেতে পারছেন না, যার কারণে ইউরোপের দেশগুলোর জন্য আবেদনও করা যাচ্ছে না।’
২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের জন্য ভারত সব ধরনের ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেয়। বেশ কিছুদিন পর সীমিত আকারে শুধু চিকিৎসা ভিসা চালু করে। এতে খুব অল্পসংখ্যক মানুষ দেশটিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ভারতের ভিসা বন্ধের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গমনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর কারণ, বাংলাদেশে ইউরোপের অনেক দেশের দূতাবাস নেই। ওই সব দেশের ভিসা দিল্লিতে অবস্থিত দেশগুলোর দূতাবাস থেকে ইস্যু করা হয়। কিন্তু ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের ইউরোপ গমনেচ্ছুরা দিল্লিতে ওই সব দেশের দূতাবাসে গিয়ে আবেদন করতে পারছেন না। ফলে তাঁরা হতাশার পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জুয়েল খান নামের আরেকজন লেখেন, ‘ট্রাভেলারদের কাছে কোনো দেশের ভিসা রিজেকশন বড় ব্যাপার না। ১০-২০টা রিজেকশন হলেও কোনো ট্রাভেলার থেমে যায় না। আমি ভারতে তিনবার, সিঙ্গাপুরে তিনবার, থাইল্যান্ডে একবার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দুবার রিজেক্ট হয়েছি।’


