প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল, করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর প্রশাসনকে আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা প্রয়োজন।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাজেটে অন্তর্ভুক্ত “স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন” সংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিতর্কিত এ বিধান পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহারের জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানো উচিত। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে তা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা যেতে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমবে এবং করব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
উচ্চশিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে টিন (TIN) সনদ দাখিলের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
অর্থপাচার প্রতিরোধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।


