দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে জানুয়ারির তীব্র সংকট কিছুটা কমলেও দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকারি ঘোষিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর-১, শ্যামলী, কারওয়ান বাজার, মুগদাসহ বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রেতা ও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এলপিজির প্রাপ্যতা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের অসন্তোষ রয়ে গেছে।
চলতি ফেব্রুয়ারিতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা, যা জানুয়ারিতে ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। কিন্তু বাস্তবে অনেক এলাকায় একই সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পরিবেশকদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে তারা ঘোষিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না। কোনো কোনো দোকানি গ্রাহকের সঙ্গে বিতর্ক এড়াতে সাময়িকভাবে এলপিজি বিক্রিও বন্ধ রেখেছেন।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক বলেন, বাজারে এখন আর অস্বাভাবিক সংকট নেই। তবে ঘোষিত দাম কার্যকর রাখতে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। তার দাবি, খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যেই থাকা উচিত।
তবে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুরের এক বাসিন্দা জানান, জানুয়ারিতে তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ২০০ টাকায়, চলতি মাসে দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা।
অন্যদিকে কারওয়ান বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মাসের তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে প্রতি মাসে গড়ে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন। জানুয়ারিতে সরবরাহ ছিল ১ লাখ টনের নিচে। ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ পর্যন্ত ৭৬ হাজার টন এলপিজি দেশে এসেছে। মাস শেষে আমদানিকৃত এলপিজির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে আগামী মাসে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন অপারেটররা।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে বাংলাদেশের এলপিজি আমদানিতে প্রভাব পড়তে পারে, কারণ দেশের প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে বাজার মনিটরিং জোরদার, আমদানি বহুমুখীকরণ এবং পরিবেশক-খুচরা পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। তা না হলে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে আবারও এলপিজি বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।


