Thursday, July 23, 2026
Home জাতীয় বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ কী

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ কী

নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এরপর জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানানো সত্ত্বেও প্রতিশ্রুত সংস্কারে বিলম্ব, ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক বিভাজনের মুখে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বাংলাদেশে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণ এখানে তুলে ধরা হলো:

ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস। তবে এখনো নির্বাচন আয়োজনে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি অন্তর্বর্তী সরকার।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। দলটি বলেছে, একটি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনি পরিকল্পনা ছাড়া অধ্যাপক ইউনূসের সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখা ‘কঠিন’ হবে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত সপ্তাহে এক বক্তব্যে ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। এতে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ে।

গত বছরের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা তরুণদের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোর দিয়ে বলছে, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

হাসিনার বিদায়ের পর অধ্যাপক ইউনূস যে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই সংস্কারের অগ্রগতি ধীরগতিতে চলছে। তার সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের জন্য সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে।

ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের প্রথম দফার সংলাপে কিছু পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।

তবে সাংবিধানিক সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ–সংক্রান্ত আরও জটিল কিছু প্রস্তাব নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপ জুনের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে বলে ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অস্থিতিশীল অবস্থা জনগণের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের রাজপথে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ রাজধানী ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।

এই অস্থিরতা নাগরিকদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি শিগগিরই রাজনৈতিক ঐকমত্য না হয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

শেখ হাসিনার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা

চলতি মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সামনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে দলটিকে কার্যত বাইরে রাখা হচ্ছে। কিন্তু এতে পরবর্তী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পদক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর সরকারকে অস্থিতিশীল করতে যে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তাতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

প্রথমার্ধে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বেড়েছে ৯ শতাংশ

বীমা খাতে তালিকাভুক্ত ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) নিট মুনাফা ৯ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের...

৬ বীমা কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

বীমা খাতে তালিকাভুক্ত ছয় কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানি ছয়টি হলো সিটি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি...

আইএফআইসি ব্যাংক ও অ্যাস্ট্রা এয়ারওয়েজের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এবং অ্যাস্ট্রা এয়ারওয়েজ লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে আইএফআইসি ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা অ্যাস্ট্রা এয়ারওয়েজের সব...

যমুনা ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি যমুনা ব্যাংক পিএলসি গত ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের এপ্রিল’২৬-জুন’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বুধবার (২২ জুলাই)...

Recent Comments