চট্টগ্রাম বন্দরের ৫৬ সেবায় গড়ে মাশুল বেড়েছে ৪১ শতাংশ। বেড়েছে বাল্কপণ্য আমদানির মাশুলও। আমদানি করা ভোগ্যপণ্য আমদানি হয় বাল্ক জাহাজে। বন্দর মাশুল বাড়ায় দাম বাড়বে খাদ্যপণ্যের। প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। এমনটা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ধিত মাশুলে আমদানি করা প্রতি কেজি বাল্কপণ্যে পরিবহন ব্যয় পড়ছে ৪৪ পয়সা। আগে যেখানে ছিল ৩২ পয়সা। এতে বাল্কপণ্যে প্রতি কেজিতে ব্যয় বেড়েছে ১২ পয়সা। এতে ভোক্তাপর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
কনটেইনার পরিবহনের মাশুলের ক্ষেত্রে আগে ২০ ফুট কনটেইনার প্রতি গড়ে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা দিতে হত, এখন গড়ে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ কনটেইনার প্রতি খরচ বাড়ল গড়ে ৪ হাজার ৩৯৫ টাকা বা প্রায় ৩৭ শতাংশ। এর মধ্যে কনটেইনার ওঠানো নামানোর মাশুলই এক লাফে ৪৩ দশমিক ৪০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮ ডলার।
অন্যদিকে সরকার বলছে, ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম বন্দরের মাশুল বাড়ানো হলো। তবু আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় এখনো এ হার অনেক কম। শিপিং অ্যাসোসিয়েশনসহ ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর যৌক্তিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি আমলে না নিয়ে সরাসরি গড়ে ৪১ শতাংশ মাশুল বাড়ানোয় ক্ষোভ বাড়ছে।
সীকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, ‘একসঙ্গে এভাবে বাড়ানো হতবাক করার মতো। ধাপে ধাপে করা যেত।’
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের সমুদ্রপথে ৯৯ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন হয়। ফলে নতুন মাশুল কার্যকরের প্রভাব পড়বে সরাসরি ভোক্তা ও রফতানিতে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এতে একদিকে আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে, অন্যদিকে রফতানিতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।


