ঢাকার বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে বনানী, মহাখালী ও গুলশান এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সোমবার (১০ মার্চ) সকালে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত মিনারা আক্তার ও তার সহকর্মী সুমাইয়া আক্তার কারখানায় যাওয়ার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এসময় একটি দ্রুতগতির যানবাহন তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মিনারা আক্তারের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত হন সুমাইয়া আক্তার। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরপরই মিনারা আক্তারের সহকর্মীসহ আশপাশের পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। তারা বনানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যা অফিসগামী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়রা জানান, বনানীর এই এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের অভিযোগ, পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং বা ওভারব্রিজের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরকার বলেন, “চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।” ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মফিজুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প পথ ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু যানবাহন ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে, কিছু রামপুরা ও প্রগতি সরণি হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, শ্রমিকদের দাবি, ঘটনার জন্য দায়ী চালককে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার করতে হবে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকায় এমন দুর্ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতি আবারও শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।


