অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের বই বিতরণ কার্যক্রমে বিভিন্ন বাধা ও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেষ্ট রয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বই বিতরণে ষড়যন্ত্রকারীরা নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে। তবে তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুশৃঙ্খলতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “বই মুদ্রণ এবং বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা সংস্কার করা হবে। ছাপা বইয়ের মান উন্নত করার লক্ষ্যে কাগজ, মলাট এবং মুদ্রণ পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসম্মত উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।” বিদেশে বই মুদ্রণের প্রবণতা বন্ধের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “আগামীতে কোনো পাঠ্যপুস্তক বিদেশে মুদ্রণ করা হবে না। স্থানীয় মুদ্রণশিল্পকে শক্তিশালী করে দেশেই বই ছাপানোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এটি শুধুমাত্র খরচ কমাবে না, বরং আমাদের শিল্পখাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।”
দুর্নীতির বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর ধরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা কিছু ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আহ্বান জানানো হবে।” এছাড়া তিনি বলেন, “মুদ্রণশিল্পে দীর্ঘদিন ধরে একচেটিয়া বাণিজ্যের কারণে প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে। এই একচেটিয়া ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।” দেশের শিক্ষাখাতের উন্নয়নে বই বিতরণকে প্রাধান্য দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তার মতে, এ ধরণের উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও টেকসই এবং উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


