Friday, June 26, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য ফের সক্রিয় সিন্ডিকেট লাগামহীন দ্রব্যমূল্য

ফের সক্রিয় সিন্ডিকেট লাগামহীন দ্রব্যমূল্য

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভোক্তাদের যখন দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তখনও নানা অজুহাতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট অতিরিক্ত মুনাফা করে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে চলেছে। বস্তুত বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর দুর্বলতার কারণেই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বেপরোয়া মুনাফা করার সুযোগ পায়। অভিযোগ রয়েছে, বাজার পর্যবেক্ষণে জড়িত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যায়। কোনো কোনো পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা বাজারদরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মানুষের সবচেয়ে বেশি ভোগ্যপণ্য মাঝারি জাতের পাইজাম, আটাশ চাল গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত বছর এ সময়ে মাঝারি চাল ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু জাতের মিনিকেট, নাজিরশাইল ১১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং মোটাজাতের স্বর্ণা, চায়না ইরি চালের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে আটার দাম ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, পাম অয়েলের (লুজ) ১৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, মসুর ডালের দাম (ছোট দানা) ১৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ইলিশ মাছের দাম কেজিতে ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়েছে। বাস্তবে এসব পণ্যের দাম টিসিবির তথ্যের চেয়েও আরো বেশি বেড়েছে।

গত তিন মাসের ব্যবধানে রুই মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে দুই কেজির ওপরে রুই মাছের দাম ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিন মাস আগেও একই ধরনের মাছের দাম ছিল ৩৫০-৩৮০ টাকা। এক কেজি ওজনের রুই মাছ তিন মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকা। এখন সেটা ২৮০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক বছরের ব্যবধানে সব সাইজের রুই মাছে দাম বেড়েছে ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম। গত বছরের চেয়ে এবার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত কেজিপ্রতি ইলিশের দাম বেড়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া হলেও কেন তা কার্যকর হয় না, সে রহস্য উদ্ঘাটনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। লক্ষ করা যায়, যখন অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়, তখন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা আরও বেড়ে যায়, সংশ্লিষ্ট পণ্যের সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। বাজার তদারকি সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের আঁতাতের বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসে। এই  জন্য কর্তৃপক্ষকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

মালয়েশিয়া–চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে চীন থেকে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ...

গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।...

জুয়া ও মাদকমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার...

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের শীর্ষ আইনপ্রণেতা ঝাও লেজির সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সমাপ্তি দিনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা এবং...

Recent Comments