বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভেতরেই পর্যাপ্ত গ্যাসের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমদানি নির্ভরতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। সম্প্রতি ঢাকায় একটি সেমিনারে এই সংকট উত্তরণের উপায় হিসেবে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, “দেশে গ্যাসের অভাব নেই। বরং অনুসন্ধানের অভাব রয়েছে। আমদানির দিকে ঝোঁক না বাড়িয়ে গ্যাস রপ্তানির মতো উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ম তামিম বলেন, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমান উৎপাদনের হার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানির ওপর নির্ভরশীল হলে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হবে। স্থানীয় উৎস থেকে জ্বালানির সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, “দেশের অর্থনীতি এখন কৃষি থেকে শিল্প ও সেবা খাতে রূপান্তরিত। কিন্তু জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও সহনীয় মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে এই অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। গত দুই দশকে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ৪ গুণ বেড়ে ৪৫ মিলিয়ন টিওইতে পৌঁছেছে। শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনও বাড়াতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের জন্য দেশের বাড়িগুলোর ছাদ কাজে লাগানো যেতে পারে। সিস্টেম লস কমানোর মাধ্যমে গ্যাস অপচয়ও রোধ করা সম্ভব। এভাবে জ্বালানি খাতে টেকসই সমাধান আনতে হবে।


