ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, আয়কর আইন ২০২৩-এর মাধ্যমে ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানি বা তহবিলের শেয়ার বা ইউনিট হস্তান্তর হতে অর্জিত ৫০ লাখ টাকার অধিক মূলধনি আয়ের উপর কর অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়। যার ফলে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে কর প্রদানকারী করদাতাদের জন্য সারচার্জসহ এ ধরনের অর্জিত আয়ের ওপর কার্যকরী করের হার ক্ষেত্র বিশেষে ৪০.৫ শতাংশে উপনীত হয়।
এতে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার বিমুখ করেছে এবং শেয়ারবাজারের উপর সামগ্রিকভাবে ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে শেয়ারবাজারের দৈনিক লেনদেন ১৮০০ কোটি টাকা থেকে ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে ৩০০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। বাজারের সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং সূচকের অব্যাহত পতন বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বাজারের এই লেনদেন এবং সূচকের পতনের ফলে সরকারের মূলধনি আয়ের ওপর কর এবং লেনদেনের ওপর আরোপিত কর উভয়ই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে।
ডিএসইর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ের উপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে পরিগণনা, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর লেনদেন থেকে ০.০৫ শতাংশ উৎসে কর-কে হ্রাসকরণ এবং এ খাত থেকে নিরূপিত ক্ষতি অন্য খাতের আয়ের সঙ্গে সমন্বয় কিংবা নিরূপিত ক্ষতির জের পরবর্তী ছয় বছর পর্যন্ত টানার অনুমতিসহ বেশ কিছু প্রস্তাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিবেচনার জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। এ সকল প্রস্তাবনার বিষয়গুলোও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সুবিবেচনা লাভ করবে।
শেয়ারবাজার মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রধানতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, তবে বিভিন্ন অনিয়ম এবং নীতি অসংগতির কারণে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারের কাঠামোগত সংস্কারে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ সকল বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে কাজ করছে। আশা করা যায় সকল সংস্কার কার্যক্রমের সফল সম্পাদন এবং পরিপূরক নীতিসহায়তার মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজার শিগগিরই একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা শুরু করবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, প্রস্তাবিত বিষয়গুলো নিয়ে তিনি অবহিত আছেন এবং সামগ্রিক অর্থনীতি, শেয়ারবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবনাগুলোর ব্যাপারে শিগগিরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি দলকে তিনি বাজার মধ্যস্থতাকারীদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা, ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের সার্টিফিকেট দেয়াসহ কিছু বিষয়ে ডিএসইর নেতৃত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।
এ সময় ডিএসইর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, মো. শাকিল রিজভী, রিচার্ড ডি রোজারিও, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাত্ত্বিক আহমেদ শাহ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (ট্যাক্স পলিসি) এ কে এম বদরুল আলম এবং সেন্টার ইন্টেলিজেন্স সেলের ডিরেক্টর জেনারেল আহসান হাবীব উপস্থিত ছিলেন।