বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বুধবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “দেশের বর্তমান সংকট এত গভীর যে এটি নির্বাচন ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এর মাধ্যমেই জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবে এবং সংকটের সমাধান হবে।”
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, “নির্বাচনের আগে ন্যূনতম যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো সম্পন্ন করা জরুরি। সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের জনগণ চায় পরিবর্তন, এবং এই পরিবর্তন আনতে নির্বাচনই হচ্ছে মূল মাধ্যম।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে চক্রান্তের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা বারবার হয়েছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, বিএনপির রাজনীতি জনগণের রাজনীতি। যারা মনে করেন বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে, তারা ভুল করছেন। আমরা অতীতে ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।”
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাকশালের পরিবর্তে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এনেছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে এমন কোনো সংস্কার মেনে নেওয়া হবে না, যা গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” সভায় অন্যান্য নেতারাও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, নির্বাচন ছাড়া সংকটের সমাধান সম্ভব নয় এবং জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তব্যের শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “সংকট যতই গভীর হোক, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ই সমাধান সম্ভব। বিএনপি জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।”


