Saturday, June 13, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য নয় মাসে ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা

নয় মাসে ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গত নয় মাসেই সরকার তফসিলি ব্যাংকগুলোর  ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৮ কোটি টাকায়। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা (৫৮ শতাংশ) এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ৪১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা (৪২ শতাংশ)।

গত বছরের জুনে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। ফলে নয় মাসে সরকারের মোট ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ১৪১ কোটি টাকা বা শতকরা ৬ শতাংশ।

সম্প্রতি অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ‘ডেট বুলেটিন’-এ তথ্য উঠে এসেছে। অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ‘মডারেট’ বা মধ্যমান পর্যায়ে রয়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘সেইফ জোন’-এর মধ্যে থাকলেও, ক্রমবর্ধমান ঋণের পরিমাণ, নমনীয় ঋণের পরিবর্তে অনমনীয় ঋণের অংশ বাড়া এবং সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ‘লাল পতাকা’ দেখাচ্ছে।

একই সময়ে সুদের হারেও রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বেড়েছে ৭ শতাংশ এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ বেড়েছে ২৩ শতাংশ। বিশেষ করে বিল ও বন্ডের মাধ্যমে অধিকহারে ঋণ নেওয়ার কারণে এখাতে সুদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয় ছিল ৬৩ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। এক বছর পর, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ১৬৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ের ব্যবধানে সুদ ব্যয় বেড়েছে ৪ হাজার ৬০১ কোটি টাকা।

 

এছাড়া, ট্রেজারি সিকিউরিটিজে সুদ ব্যয় বেড়েছে ৪৫ শতাংশ বা ১৩ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে এই খাতে ব্যয় ছিল ২৯ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকায়। তবে সঞ্চয়পত্রে সরকারের সুদ ব্যয় এ সময়ে ২৫ শতাংশ কমেছে।

অর্থ বিভাগ থেকে গত জুনে প্রকাশিত মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশলে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অনুদান ও নমনীয় ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে এসেছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে তুলনামূলকভাবে উচ্চ সুদের হার এবং স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

 

এ প্রেক্ষাপটে ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণ এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে কার্যকর সংস্কার না আনতে পারলে ঋণের চাপ ও ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল বাস্তবায়নে সরকার সফল হলে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে অর্থ বিভাগ মনে করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

আলগা পিরিত দেখিয়ে কোনো লাভ নেই: ভারতের হাইকমিশনারকে মির্জা গালিব

ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড....

পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি...

কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ-সিগারেটের ওপর, বিরোধী দল সেটিরও সমালোচনা করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়নি। বরং জনস্বাস্থ্যের বিষয় বিবেচনায় শুধু মদ...

ইতিহাস বিকৃতির পরিণতি কখনো শুভ হয় না : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনৈতিক ধারার বিকাশ ঘটেছে। তাই...

Recent Comments