নওগাঁর পাইকারি আড়তে সর্বশেষ দিনগুলোতে সবজির দাম চড়া। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব সরাসরি বাজারে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বেগুন, পটোল, করলা, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে প্রতিকেজি পটোল ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৩৫ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, করলা ৯০ টাকা ও পেঁপে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সকাল থেকে পাইকারি সবজি বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চাষিরা জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে ফসলের উৎপাদন কমেছে। অনেক ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ায় বাকি ফসলও ঠিকমতো বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বাজারে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় দাম স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
যদিও সবজির দাম বেড়েছে, কিছু পণ্যের দাম কমেছে। উদাহরণস্বরূপ, কচুর কেজি দাম আগে ৫০ টাকা হলেও এখন নেমে ৩০ টাকায় এসেছে। আলুর দামও কমেছে; প্রতিকেজি আলু এখন ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের ২৫ টাকার চেয়ে কম। কাঁচা মরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে প্রতি কেজি মরিচের দাম ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নওগাঁর পাইকারি আড়তের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাজারে সরবরাহ কম। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে দাম আবার কমতে পারে। এই আড়তে ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। চাষিরা বলছেন, উৎপাদন কম হওয়ায় তাদের লাভ সীমিত হলেও বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুটা স্বস্তি মিলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শীতকালীন সবজির উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। ক্রেতাদের জন্য প্রয়োজন সতর্ক থাকা এবং বাজারে দাম ওঠানামা বিবেচনা করে ক্রয় পরিকল্পনা করা। নওগাঁর এই পাইকারি বাজারের পরিস্থিতি চাষি, ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে।


