জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “নির্বাচন তাদের জন্য, যারা দেশের মাটিকে আমানত মনে করে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে।”শুক্রবার দুপুরে নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দ্দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল বিভিন্ন সময় জনগণের অধিকার হরণ করেছে এবং বিরোধী মতের মানুষদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পরে দফায় দফায় যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের আমানতের খেয়ানত করেছে। তবে বিগত ১৫ বছর দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে যে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা মানবিকতার সীমা ছাড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমরা বিভেদ নয়, ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই এ দেশের গর্বিত নাগরিক। তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।”
বিদেশি প্রভাব মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বিদেশি বন্ধু চাই, কিন্তু প্রভু চাই না। বাংলাদেশ কারও শাসনাধীন হতে পারে না। আমরা পিন্ডির হাত থেকে মুক্ত হয়েছি, অন্য কারও দাসত্ব গ্রহণ করার জন্য নয়।” তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষ এ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে। তারা বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছে। যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়েছে, তারাই দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে।”
জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন ও মোবারক হোসেন। ডা. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাব। যুবসমাজকে গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে।”


