পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এসব কথা জানান।
ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান গতকাল বাণিজ্য উপদেষ্টা, খাদ্য উপদেষ্টা, শিল্প উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের বাণিজ্য, শিল্প, খাদ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের নানা দিক। দীর্ঘদিন অচল থাকা জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (জিইসি) পুনরায় চালু, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন খাত সংযোজন, শুল্ক ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার, যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি পরিবহন সংযোগ চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে আলোচনায়।
পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান গতকাল বিকালে বৈঠক করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে দেড় দশক ধরে অকার্যকর থাকা বাংলাদেশ-পাকিস্তান জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন কার্যকরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে বা বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদন করতে পারলে তা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।’
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের হাইড্রোজেন পারক্সাইডের ওপর পাকিস্তান অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করে রেখেছে। আমরা সেটা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি, তারা আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া আমাদের চামড়া ও চিনি শিল্প উন্নয়নে সহায়তা চেয়েছি। একসময় পাকিস্তান আমাদের এক কোটি কেজি চা রফতানিতে ডিউটি ফ্রি সুবিধা দিত, তা আবার বহাল করতে অনুরোধ করেছি।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর ৮০ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে; যার মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলারেরই খাদ্য ও মধ্যবর্তী পণ্য। দুই দেশের মধ্যে এসব পণ্য বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ আছে। সেটা খতিয়ে দেখার জন্য নতুন ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গঠন করা হচ্ছে। উভয় দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে কৃষি, খাদ্যপণ্য, ফল আমদানি ও রফতানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ স্থানীয়ভাবে চিনি উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছে। পাকিস্তান সব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে দেখেছে এবং নিউ কমিশনে এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।’
বাংলাদেশ পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘সর্বাগ্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, যেখানে দেশের স্বার্থ আছে, সেখানেই ঝুঁকছি। পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছি। ভারত থেকেও পেঁয়াজ আনছি।’
এর আগে জাম কামাল খান খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। খাদ্য সচিব মো. মাসুদুল হাসানের উপস্থিতিতে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় জাম কামাল খান দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিন ঢাকা চেম্বার আব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসি আই) সভাপতি তাসকিন আহমেদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাম কামাল খান। মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাসকীন আহমেদ পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের এফটিএ স্বাক্ষর হলে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে জানান।
জাম কামাল খান বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়ই রপ্তানির ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল খাতের ওপর অধিক মাত্রায় নির্ভরশীল, দুটো দেশেরই রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোরারোপ করা প্রয়োজন।


